Vote campign 06

ইস্টবেঙ্গলের সম্মানে অভিভূত মনোরঞ্জন

Share Link:

ইস্টবেঙ্গলের সম্মানে অভিভূত মনোরঞ্জন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাত–আটের দশকের ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের আড্ডায় এখনও একটাই নাম বারবার ঘুরে ফিরে আসে। নামটা যে শুধু নাম নয়। নামটা ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাসে মিশে রয়েছে আবেগ হিসাবে। ভালবাসা হিসাবে। নামটা উঠলেই সেই সমস্ত সমর্থকরা নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েন। উল্টোদিকে, ইস্টবেঙ্গল প্রসঙ্গ উঠলে তিনিও এক লহমায় আবেগতাড়িত। তাঁর মনের মণিকোঠায় ভেসে ওঠে কতই না পুরনো স্মৃতি। পুরনো সব ঘটনা।

ইস্টবেঙ্গলের জীবনকৃতি সম্মান পাওয়ার থেকেও মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের কাছে সেরার সেরা স্মৃতি ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে প্রথম দিন মাঠে নামার অভিজ্ঞতা। ছোটবেলা থেকেই ইস্টবেঙ্গলের অন্ধ ভক্ত। তারপর ইস্টবেঙ্গল জার্সি গায়ে চাপানোর প্রসঙ্গ উঠতেই এখনও রোমাঞ্চিত মনোরঞ্জন। ক্লাবের তরফে জীবনকৃতি হিসাবে মনোরঞ্জন ও ভাস্কর গাঙ্গুলি নাম সরকারি ঘোষণার পর কথা বললেন মনোরঞ্জন।

ইস্টবেঙ্গলে তাঁর পরিচিতি মনোরঞ্জন নয়, তাঁকে ডাকা হত ‘আমাগো মনা’ বলে। হ্যাঁ, মনোরঞ্জন আর ইস্টবেঙ্গল একটা সময়ে একই মুদ্রার এপিঠ–ওপিঠ। ১৯৮১ সালে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক নির্বাচিত হলেও, লাল–হলুদের হয়ে যত বছর খেলেছেন তিনিই ছিলেন আসল নেতা। ১৯৭৭ সালে ইস্টবেঙ্গলে প্রথম সই। তারপর সময় যত গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলে মনোরঞ্জন হয়ে উঠেছেন ‘আমাগো মনা’। একেবারে নিখাদ ঘরের ছেলে। সেই ঘর থেকে যখন কোনও সম্মান পাওয়া যায়, তার অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে অভিভূত মনোরঞ্জন। তাঁর কথায়, “ইস্টবেঙ্গলের এই সম্মান আমার কাছে অন্যরকম একটা ব্যাপার, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তার থেকেও বিরাট ব্যাপার ইস্টবেঙ্গলে খেলা। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম এই ক্লাবে খেলব। ভগবান আমাকে কোনও বর দিতে চাইলে আমি বলতাম ইস্টবেঙ্গলে খেলব। মন থেকে চেয়েছিলাম বলেই হয়তো এতটা পথ পেরোতে পেরেছিলাম।”

টানা ১৪ বছর ইস্টবেঙ্গলে খেলেছিলেন। পরে আরও একটা বছর। লাল–হলুদে খেলোয়াড় জীবনে প্রথম বছরটা কাটানোর পর কোনওদিন টিম লিস্টই দেখতেন না। দেখার প্রয়োজন পড়ত না। মনোরঞ্জনের আত্মবিশ্বাস বাকিদের থেকে অনেক বেশি ছিল। তাঁর কথায়, “ঈশ্বর আমাকে দুটো জিনিস দিয়েছিল। স্বাস্থ্য এবং মনের জোর। এই দুটোই ছিল আমার খেলোয়াড় জীবনের অস্ত্রাগারের প্রধান অস্ত্র। তা নিয়েই লড়ে গিয়েছি। আমি কীরকম খেলেছি, সেটা আমার থেকে সমর্থকরা ভাল বলতে পারবেন। কিছু পাওয়ার আশায় খে‍লিনি, ভাল লাগা থেকে খেলেছি। ইস্টবেঙ্গলের থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি।”

মনোরঞ্জনের মনের জোরের নিদর্শন রয়েছে প্রচুর। জ্বর নিয়ে পুরো ম্যাচ খেলা। ভাঙা নাক নিয়েও লড়াই চালিয়ে যাওয়া। কুঁচকিতে ঘা নিয়েও ম্যাচ খেলে দলকে সাহায্য করা। কোচ পি কে ব্যানার্জি একবার ‘রাজা–রাণীর’ গল্প শুনিয়ে মনোরঞ্জনকে তাতিয়ে দিয়ে ম্যাচে নামিয়ে ছিলেন। রক্ষণে মনোরঞ্জন থাকা মানে সতীর্থদের কাজ অর্ধেক হয়ে যেত। নিজের কীর্তির কথা বলতে একেবারেই না পসন্দ ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ডিফেন্ডারের, “নিজের সম্বন্ধে কথা বলতে ভাল লাগে না। শুধু এটুকু বলতে পারি, আমাদের সময়ে ইস্টবেঙ্গলের পরিবেশ আলাদা ছিল। অনেক খোলামেলা ছিল। খেলোয়াড়রা মন খুলে কথা বলত। মাঠে খেলত মনপ্রাণ দিয়ে। জান লড়িয়ে দিত।”

ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার হিসাবে কমবেশি সব ট্রফিই জিতেছেন। পাশাপাশি কোচ হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম আই লিগ জিতিয়েছেন। ক্লাব বিপদে পড়লেই ডাক পড়েছে তাঁর। এদিন সন্ধায় বেলঘরিয়া ষ্টেশন লাগোয়া ফ্ল্যাটে নিজের ড্রয়িংরুমে বসে মনোরঞ্জন বলেছিলেন, “আমি ইস্টবেঙ্গলে ঢুকেছিলাম বিশাল চাপ নিয়ে। অশোকলাল ব্যা‍নার্জির জায়গায় আমাকে নেওয়া হয়েছিল। তিনি ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের স্তম্ভ ছিলেন। ওঁর জায়গায় যখন আমাকে সই করানোর কথা বলা হল প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ওঁর ভক্ত ছিলাম আমি। মাথায় বিশাল চাপ নিয়ে খেলা শুরু করেছিলাম। প্রথম দিন থেকে কাঁধে অনেক দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামতাম।”

Vote campign 06

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Vote2019 camp01

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Board Exam AD2

ভোটের জবাব

বীরভূমের লাভপুরে স্ট্রংরুমের পাহারায় কেন্দ্রীয় বাহিনী

বীরভূমের লাভপুরে স্ট্রংরুমের পাহারায় কেন্দ্রীয় বাহিনী

মাদুরাইয়ে একটি স্ট্রংরুমে কড়া প্রহরা

মাদুরাইয়ে একটি স্ট্রংরুমে কড়া প্রহরা

Voting Poll (Ratio)

Vote campign 07