Vote campign 05

কলকাতা পুলিশের ন্যক্কারজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

Share Link:

কলকাতা পুলিশের ন্যক্কারজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি: নির্বাচন কমিশনের ‘দয়ায়’ কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে ‘বিজেপির ঘরের ছেলে’ হিসেবে পরিচিত রাজেশ কুমার বসতেই এক লহমায় চাঙা হয়েছিল গেরুয়া শিবির। আর কলকাতা পুলিশের ‘রহস্যজনকভাবে’ নিস্ক্রিয় থাকার সুযোগ নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধেয় মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ‘গুণ্ডামি’ চালাল গেরুয়া শিবিরের গুণ্ডারা। ভাঙল বিদ্যাসাগরের মূর্তি, পুড়ল একাধিক গাড়ি, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বিদ্যাসাগর কলেজের দরজা-জানলা। আর গোটা তাণ্ডবের সময়ে কার্যত হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা।

উল্টে খোদ লালবাজারের শীর্ষমহলের নির্দেশে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যাওয়া হল গেরুয়া শিবিরের গুণ্ডামির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া নিরীহদের উপরে। কলকাতা পুলিশের এমন ন্যক্করজনক ও নীরব ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও কলকাতা পুলিশের কোনও শীর্ষ আধিকারিক এদিনের গেরুয়া ‘গুণ্ডামি’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি।

সূত্রের খবর, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শো ঘিরে চূড়ান্ত অশান্তি বাঁধতে পারে বলে লালবাজারে কলকাতা পুলিশের সদর দফতরে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। রোড শো সফল করার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেছেবেছে দলের ‘উগ্র’ কর্মীদের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড ও অসম সহ আশেপাশের রাজ্য থেকেও প্রচুর সমর্থকদের নিয়ে আসা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছিল। ধর্মতলার শহিদ মিনার ময়দান থেকে মিছিল শুরু হওয়ার সময়ে বিজেপি কর্মীদের হাতে হকি স্টিক, মোটা লাঠি সহ প্রচুর কাঁচের বোতল ছিল। অমিতের রোড শোয়ে থাকা গাড়িতেও বোঝাই করা ছিল ডাণ্ডা।

কিন্তু আগাম গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকা সত্বেও মিছিলের উপরে নজরদারির জন্য তেমন পুলিশি প্রহরার বন্দোবস্থ করা হয়নি তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক মিছিলের ক্ষেত্রে সামনে ও পিছনে পুলিশি প্রহরা থাকলেও, এদিন ছিল উল্টো ছবি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যখন গেরুয়া শিবিরের ‘গুণ্ডারা’ আক্রমণ চালাচ্ছে, তখন পুলিশ ব্যস্ত ছিল নিরাপদ দুরত্বে সরে যেতে। বিদ্যাসাগর কলেজের ভিতরে ঢুকে যখন ভাঙা হল বিদ্যাসাগরের মূর্তি, একের পর এক বাইকে ধরানো হল আগুন তখন ত্রিসীমানায় দেখা যায়নি কোনও পুলিশ আধিকারিককে।

অথচ গেরুয়া শিবিরের তাণ্ডবলীলার চিহ্ন যখন ছড়িয়ে গোটা কলেজ স্ট্রিট চত্বর জুড়ে, স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে রীতিমতো ভয়ে সিঁটিয়ে, বিদ্যাসাগর কলেজে পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তখন হেলেদুলে সেখানে হাজির হলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজেশকুমার, অতিরিক্ত কমিশনার সুপ্রতিম সরকার, যুগ্ম কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠীরা। ঘটনার তদন্ত হওয়ার কথা বলে নিজেদের কাঁধ থেকে দায় ঝেড়ে ফেলা ছাড়া আর কোনও সক্রিয়তা দেখা গেল না।
 
প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অশান্তির পরে কেন অমিত শাহের মিছিলের উপরে কড়া নজরদারি রাখা হল না? কেন পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে আশেপাশের একাধিক থানা থেকে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হল না? কেন পদস্থ আধিকারিকরা লালবাজারের ‘ঠাণ্ডিঘরে বসে টিভি চ্যানেলে তাণ্ডবের ঘটনার সরাসরি সম্প্রচারের পর পাঁচ মিনিটের পথ পৌঁছাতে ঘণ্টা দেড়েক নিলেন? কেন গোটা চত্বরকে সিল করে দিয়ে গেরুয়া তাণ্ডবের মূল পাণ্ডাদের গ্রেফতার করা হল না? সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মেরে গর্ববোধ করা কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারলেন না? কলকাতা পুলিশের ফেসবুকে পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের নগন্য কাজকে মহান বলে চালানোর চেষ্টায় হাজারের পর হাজার শব্দ খরচ করেন যে শীর্ষ আধিকারিকরা, তাঁরা অবশ্য এদিন মুখে কুঁলুপ এঁটে বসেছিলেন।

Vote campign 04

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email & Phone No. will not be published. Required fields are marked (*).

এই মুহূর্তে Live

Vote2019 camp03

Stay Connected

Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Vote campign 08

ভোটের জবাব

বীরভূমের লাভপুরে স্ট্রংরুমের পাহারায় কেন্দ্রীয় বাহিনী

বীরভূমের লাভপুরে স্ট্রংরুমের পাহারায় কেন্দ্রীয় বাহিনী

মাদুরাইয়ে একটি স্ট্রংরুমে কড়া প্রহরা

মাদুরাইয়ে একটি স্ট্রংরুমে কড়া প্রহরা

Voting Poll (Ratio)

Vote campign 08